আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উপহার: চুয়েট পরিবহন বহরে নতুন বাস
বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ:
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিদিনের পরিচিত একটি দৃশ্য—সকালের আলো ফুটতেই বাস স্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইন, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাসের অপেক্ষায় ব্যাকুল কয়েকশো তরুণ চোখ, কিংবা বাদুড়ঝুলা হয়ে শহরে ফেরার তাড়া। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের জন্য এই চিত্র প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার অংশ। পাহাড়ি সবুজ আর প্রকৃতির কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা চুয়েট ক্যাম্পাসটি যেমন রূপময়, শহর থেকে এর দূরত্ব ততটাই চ্যালেঞ্জিং। এই ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে চুয়েট পরিবারের প্রতিদিনের জীবনের একটি বড় অংশ কেটে যায় চাকা ঘোরার শব্দে, যাতায়াতের ক্লান্তিতে।
এমনই এক বাস্তবতায় ক্যাম্পাসের পরিবহন বহরে নতুন একটি পেজ যুক্ত হচ্ছে। আগামীকাল, ১লা সেপ্টেম্বর, চুয়েটের যানবাহন বহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে একটি নতুন বাস। তবে চার চাকার এই বাহনটি শুধুই কাঠামোগত কোনো সংযোজন নয়; এর পেছনে রয়েছে সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য গল্প। বাসটি উপহার হিসেবে চুয়েটের হাতে তুলে দিচ্ছে 'আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন'।
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের জায়গা নয়, এটি একটি বৃহৎ পরিবার। আর একটি পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট লাঘবে যখন বাইরের কোনো সামাজিক উদ্যোগ এগিয়ে আসে, তখন তা গভীর তাত্পর্য বহন করে। উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাকে সমৃদ্ধ করতে সামাজিক ফাউন্ডেশনের এই উদারতা কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, অনুকরণীয়ও বটে।
প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চুয়েটের লাল বাসে করে হাজারো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আসেন। বাসগুলোর আসন সংখ্যা আর শিক্ষার্থীদের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান সবসময়ই ছিল আলোচনার বিষয়। অনেক সময় ক্লাসের নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর তাগিদ কিংবা পরীক্ষা শেষে ক্লান্ত দেহে ফেরার পথে একটি সিট পাওয়া যেন ছিল বাড়তি পাওয়া। নতুন এই বাসের অন্তর্ভুক্তি সেই চেনা ভোগান্তিতে অন্তত খানিকটা স্বস্তির পরশ ঘষে দেবে।
বাড়তি বাসের কারণে রুটের ট্রিপ সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, ফলে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে যাতায়াতের চাপ অনেকটাই কমবে।
সময়ের সাশ্রয় ও নিরাপত্তা: দীর্ঘ অপেক্ষা না করে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা পড়াশোনায় মনোযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
শিক্ষা ও তরুণ সমাজের কল্যাণে সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের ভূমিকা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, এই বাস উপহার সেটিরই প্রমাণ।
১লা সেপ্টেম্বরের সকালটি চুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক বার্তা নিয়ে আসছে। চাকার ঘূর্ণনে শুধু দূরত্বই কমবে না, কমবে যাতায়াতের সুদীর্ঘ ক্লান্তিও। চুয়েট পরিবহন বহরের এই নতুন সংযোজন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবনকে আরও মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলুক—এই প্রত্যাশা চুয়েট সংশ্লিষ্ট সকলের।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।